কোনো শর্তেই ‘আত্মসমর্পণ’ করবে না হিজবুল্লাহ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে তেহরানের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে, অন্যদিকে লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানের জবাবে কোনো অবস্থাতেই আত্মসমর্পণ না করার ঘোষণা দিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী। এ অবস্থায় পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

ইরানের রাজধানী তেহরানে হামলা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী। যৌথবাহিনীর হামলার নতুন লক্ষ্যবস্তু হয়েছে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক স্থাপনা। তেহরানের বিভিন্ন অংশ থেকে মাঝেমধ্যেই ভেসে আসছে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ। এরইমধ্যে দেশটিতে হতাহতে সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়েছে।

এদিকে, পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরানও। মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে অন্তত ১৯ দফা আক্রমণ চালিয়েছে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। তাদের দাবি, ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশাপাশি বেশ কিছু জায়গার উন্নত রাডার সিস্টেমকে সফলভাবে নিশানা করেছে তেহরান। তবে সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে ইসরায়েল।

এদিকে ইরাকের কুর্দিস্তানে ইরানবিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর ওপরও হামলা চালিয়েছে ইরান।

এমন অবস্থায় ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ভালো অবস্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্র। এটিকে ইরানের বিরুদ্ধে অসাধারণ অগ্রগতি বলে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তবে বেপোরোয়া ট্রাম্পকে থামানোর পথও একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুদ্ধবাজ মনোভাব বন্ধ করতে আইনপ্রণেতাদের পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান ডেমোক্রেট নেতা চাক শুমার। যদিও প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতা কমাতে মার্কিন সিনেটে উত্থাপিত প্রস্তাবটি ৫৩-৪৭ ভোটে নাকচ হয়ে যায়।

ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে বা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে এখন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে না ট্রাম্পের।

রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। নতুন করে তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবিও করেছে দেশটি। আল-খারজ শহরে এগুলো ধ্বংস করা হয়। প্রতিবেশি আরব রাষ্ট্রগুলোর ওপর ইরানের চলমান হামলায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন আরব লিগের মহাসচিব আহমেদ আবুল ঘেইত।

যুদ্ধ বিস্তৃত হয়েছে লেবাননেও। দক্ষিণ লেবাননের অন্তত নয়টি শহরে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত ইসরায়েলি সেনা। তাদের হামলায় এরইমধ্যে হতাহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। হিজবুল্লাহকে ধ্বংস করা ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য হলেও, সহজে পিছু পা হচ্ছে না সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। কোনো শর্তেই আত্মসমর্পণে প্রশ্নই উঠে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাশেম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *